ইসলাম এবং ধর্মত্যাগ

পারিবারিক সূত্রে পাওয়া ধর্ম ‘পিসলাম’ ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করার গল্প আপনি কাউকে বলতে পারছেন না। কারণ ‘পিসলাম’ ধর্মের আইন অনুযায়ী, কোনো প্রাপ্তবয়স্ক লোক যদি ‘পিসলাম’ ধর্মের কালিমা পড়ার পর কাউকে হত্যা করা, বিবাহিত অবস্থায় ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া এবং ধর্ম ত্যাগ করা এই তিনটি কাজের যেকোনো একটি না করে তাহলে তাকে হত্যা করা বৈধ নয়, যদি এই তিনটি কাজের একটি কেউ করে তাহলে তাকে হত্যা করতে হবে। আপনি আপনার পারিবারিক ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন, এই কথাটি বললে আপনাকে মেরে ফেলা হবে। তাই নিজেকে বাঁচানোর জন্য আপনাকে চুপ থাকতে হয়, লুকিয়ে লুকিয়ে নামাজ কোরআন পড়তে হয়। আপনার মা আপনার মধ্যে আসা পরিবর্তন লক্ষ্য করতে পারেন, তিনি আপনাকে নামাজ পড়া অবস্থায় দেখে ফেলেন। তিনি আপনার বাবাকে সবকিছু জানান, তারপর আপনার বাবা মা দুজন মিলে জোর করলে আপনি মুখ খুলতে বাধ্য হন। আপনার বাবা আবার বড়সড় মাপের একজন ‘পিসলামিস্ট’ যার কাছে সবার আগে ধর্ম! সুতরাং, আপনাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হলো। নিজের মন বদলে ইসলাম ছেড়ে পিসলামে ফিরে আসার জন্য আপনাকে তিনদিন সময় দেওয়া হলো। মরতে তো একদিন হবেই, মরবো যখন সত্যের জন্যই মরবো মিথ্যার আশ্রয়ে নয়!

সময় এলো আপনাকে হত্যা করার, আপনাদের রাষ্ট্রের শাসক বা তার একজন প্রতিনিধি অস্ত্র হাতে আপনার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন এক কোপে আপনার মাথা আপনার দেহ থেকে আলাদা করার জন্য। আপনি উপুড় হয়ে বসে মাটির দিকে তাকিয়ে আছেন, আপনার মনে যে কি চলছে তা ভাষায় প্রকাশ করা যায়না। দশ সেকেন্ডের মধ্যে আপনার মাথা আপনার দেহ থেকে আলাদা হয়ে যাবে, সুন্দর এই পৃথিবীতে আপনার আর কোনো অস্তিত্ব থাকবেনা। এমন সময় ‘মফিজ আজাদ’ নামক একজন মানসিক প্রতিবন্ধী দৌড়ে আপনার কাছে এসে কানেকানে আপনাকে বললো, ‘পিসলামই সবচেয়ে শান্তির এবং শ্রেষ্ঠ ধর্ম’। একটু কল্পনা করে দেখুন, ঐ মুহূর্তে বাক্যটি আপনার কাছে কেমন লাগবে? আপনার পারিবারিক ধর্ম থেকে কেবল আপনার বিশ্বাস উঠে গেছে বলে আপনার আর বিশ্বাস কাজ করছে না বলে আপনার পারিবারিক ধর্ম আপনাকে হত্যা করতে বলে, আপনাকে আর বাঁচতে দিতে চায়না এমন জঘন্য বর্বর ধর্মকে কি কোনোভাবেই আপনি শান্তির ধর্ম বলে মনে করবেন? আপনি যদি একজন সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ হয়ে থাকেন তাহলে শান্তির ধর্মের দাবিটি আপনার কাছে অবশ্যই জঘন্য মিথ্যে এবং পাগলের প্রলাপ বলেই মনে হবে।

ঠিক সেই কারণেই মুসলমানদের দাবি “ইসলাম শান্তির ধর্ম” একটি জঘন্য মিথ্যা কথা। ঠিক সেই কারণেই “ইসলাম একটি বর্বর ধর্ম” কথাটাই বাস্তবতা। হ্যা ইসলাম এমনই একটি ধর্ম যেই ধর্ম অনুযায়ী, কোনো মুসলমান যদি ইসলামে আর বিশ্বাস করতে না পারে তাহলে তাকে হত্যা করে ফেলতে হবে। কোনো মুসলমান ইসলাম ত্যাগ করলে ইসলামের ভাষায় তাকে মুরতাদ বলা হয়। একজন মুরতাদের ইসলামের প্রতি আর বিশ্বাস না থাকা, ইসলামকে ভুল মনেকরা ইসলাম অনুযায়ী একটি “অপরাধ”। অনেক অনেক সহিহ হাদিস পাওয়া গেছে যেখানে দেখা যায়, মুহাম্মদ বলেছেন যে, যারা ধর্ম ত্যাগ করে ফেলে বা দ্বীন ত্যাগ করে ফেলে তাদেরকে হত্যা করো। সহিহ হাদিস সমূহ খুব পরিষ্কারভাবেই বর্ণনা করে যে, ইসলামে ইসলাম ত্যাগ করার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। ইসলামের চোখে ধর্ম ত্যাগ করা এতো বড়ই একটি অপরাধ যে, ইসলামে “নিরপরাধ” মানুষ হত্যা করার শাস্তি যা ধর্ম ত্যাগ করার শাস্তিও তা। বিভিন্ন সহিহ হাদিস সমূহের বর্ণনায় এসেছে যে, কোনো মুসলিম ব্যক্তি যদি সাক্ষ্য দেন যে, আল্লাহ্‌ ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই এবং নবী মুহাম্মদ আল্লাহ্‌র রাসূল তাহলে তিনটি কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করা বৈধ নয়। কারণ তিনটি হচ্ছে : যদি তিনি কোনো নিরপরাধ মানুষকে খুন করেন, যদি তিনি বিবাহিত হওয়ার পরও ব্যভিচারে লিপ্ত হন এবং যদি তিনি ইসলাম ত্যাগ করেন। আমি কি ইসলাম নিয়ে ভুল কিছু বললাম কিনা ভুল কোনো অভিযোগ তুললাম কিনা ভুল ব্যাখ্যা করলাম কিনা সেটা সহিহ হাদিস সমূহ দেখে নিজেই মিলিয়ে নিতে পারেন। আমি আলোচ্য বিষয়ক কিছু সহিহ হাদিস তুলে ধরছি :

nastikya

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s